Goodman Travels

মৃত্যুপুরী’ এক হাইওয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কঃ দ্রুত রাস্তা চারলেন করার দাবী জনসাধারণের

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : এক ‘মৃত্যুপুরী’ মহাসড়ক সিলেট-ঢাকা। সিলেট থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত অংশেই প্রতি বছর ঘটছে অগণন দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছেন শত শত মানুষ। আর পঙ্গুত্বের গ্লানি নিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকার রশিদপুর, নাজির বাজার, জেলার বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর এসব স্থানে গত এক বছরে প্রায় শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর প্রাণ হারিয়েছেন অর্ধশতাধিক। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কোন হিসেব দিতে না পারলেও প্রতিদিন অন্তত ২টি করে দুর্ঘটনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট জোন। দীর্ঘদিন থেকে এমন অবস্থা চললেও নাড়িয়ে দেয় এক সাথে কয়েকটি প্রাণহানি। সর্বশেষ শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭ টায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কের রশিদপুর এলাকায় দ্রুতগামী দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন ৮ জন। আহত অবস্থায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন আরও অনেকে। নিহতরা হলেন- সিলেটের উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক আল মাহমুদ সাদ ইমরান খান (৩৩), এনা পরিবহনের বাসের চালক ওসমানীনগর উপজেলার ধরখা গ্রামের মঞ্জুর আলী (৩৮), এনার সুপারভাইজার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিঠাভরা গ্রামের সালমান খান (২৫), হেলপার ধরখা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (২৪), বি বাড়িয়ার সরাইল থানার রাজানিয়াকান্দি পশ্চিম পাড়ার নুরুল আমিন (৫০), ঢাকার ওয়ারি এলাকার নাদিম আহমদবসাগর (২৯) ও সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকা শাহ কামাল (২৭), ছাতক বাংলাবাজার এলাকার রহিমা (২৬)। সকালে এ দুর্ঘটনার পর আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠে হাসপাতাল এলাকা। মর্গে থাকা লাশগুলোর স্বজনরা এসে জড়ো হন হাসপাতালের বারান্দায়। কেউবা হাসপাতালের বারান্নায় জ্ঞান হারাচ্ছেন আর কেউ বিলাপ করছেন। মহাসড়কে প্রানহারানো এমন অগণন মানুষের স্বজনদের বার বার কান্নার সাক্ষী হতে হয় ওসমানী হাসপাতালকে। একই ভাবে গেল বছরের ৩১ জুলাই তারিখে লাশের সারি দেখেছিলো মহাসড়কের ওসমানীনগরের চাদপুর এলাকা। ঠিক একই সময় সকাল ৭ টায় বাস-প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে কারের চালক ও একই পরিবারের নারী-শিশুসহ ৪ জন মিলে মোট ৫ জনের প্রাণহানি হয়েছিলো এ সড়কে। এর পর ফেরে লাশের সারি তৈরি হলো আজ। শুক্রবার এ দুর্ঘটনার পর পর ফের আলোচনায় এসেছে সড়কটি। নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা। কি ভাবে এসব দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ায় যায় তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এমন বাস্তবতায় যানবাহনের বেপরোয়া গতি, অপ্রশস্ত রাস্তা আর ট্রাফিক আইন অমান্য করাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ঢাকা সিলেট মহাসড়ক চারলেনে রূপান্তর এবং হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি স্থানীয়দের। আর ভাঙ্গাচুরা ও ছোট রাস্তার দুষ দিলেও চালকদের অসচেতনতার কথা কিছুটা হলেও স্বীকার করছেন শ্রমিক নেতারা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, সিলেট বিভাগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ শামসুজ্জামান মানিক বলেন, সাইফুর রহমানের সময় সড়কটির যে পরিমাণ বড় করা হয়েছিলো এর পর থেকে একই ভাবে আছে। কিন্তু দিনে দিনে গাড়ির পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়লেও সড়ক আর বড় হয়নি। তাছাড়া সড়কটি অধিকাংশ জায়গায় ভাঙাচুরা আছে। সব মিলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তবে যদিও বড়বড় প্রতিটি পরিবহণ তাদের চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তবুও অসচেতনতা বা অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। তবে, হাইওয়ে পুলিশ বলছে, নিয়মিত অবৈধ যানবাহন ও আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। একই সাথে বেপরোয়া গতির গাড়ির বিরুদ্ধেও তাদের অভিযান থাকলেও চালকদের অসেচতনতা, সমীহার অভাবসহ নানা কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ সিলেট জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মাসুদ করিম সিলেট ভয়েসকে বলেন, আমরা সোরকে নিয়মিত অভিযান চালাই। সিলেট জোন প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৬ মাসে অসংখ্য মামলা হয়েছে। তাছাড়া স্পিড গান ব্যবহার করে বেপরোয়া জানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু চালকরা কেউ কাউকে সমীহা করতে চায় না। এক গারি ওপর গাড়িকে সুযোগ দিতে চায় না। এছাড়াও রাতে চালকরা বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেন। আর অসচেতনতাতো আছেই। তারা সুযোগ পেলেই ইচ্ছামত গাড়ি চালান। এজন্য দুর্ঘটনাগুলো হয়। সিলেট জোন প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৬ মাসে প্রতিদিন অন্তত ২টি করে দুর্ঘটনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সকলের মধ্যে যেমন সচেতনতা দরকার তেমনই সড়কটি বড় হওয়া প্রয়োজন। চার লেন হয়ে গেলে দুর্ঘটনা কিছুটা কমে আসবে।’