Goodman Travels

“ভালেবাসার আত্মা” ছোট গল্প লিখেছেন মহসিনা তানজিন অনন্যা

ভালেবাসার আত্মা
লেখিকাঃমহসিনা তানজিন অনন্যা
আমি অনন্যা বর্তমানে সাইকোলজির ছাত্রী। খুব আগ্রহ নিয়েই এই বিষয়ে পড়া। ছোটবেলা থেকেই আমার ধারণা সাইকোলজিষ্টরা মানুষের দিকে তাকিয়ে তাদের মন পড়তে পারে কারণ তাদের মনোবিজ্ঞানী বলা হয়। হা হা কি ভাবছেন আগেই পাগল হয়ে গেছি পাগলদের সামলাবো কেমনে?
কিন্তু যখন ধারণা হলো তখন বুঝলাম কতোটা কষ্ট বা ডিপ্রেশনে পরে মানুষ পাগলে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ। এখন মানসিক রোগীর ওপর একটা এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। সেই সুবাদে মানসিক হাসপাতালে আমাদের আসা। আমার মোটেও এখানে আসার ইচ্ছে ছিল না রিমা, প্রিয়া বৃষ্টি ওদের কথায় আসা। ওরা আমার ক্লাসমেট। হাসপাতালে আসার পর ওরা ভিতরে চলে গেলো আমি বাহিয়ে কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচটাটে বসলাম । আসার আগে ওদের বলেই দিয়েছি আমার এসাইনমেন্টটাও তোরা করে দিবি।
হুট করে কোথা থেকে একটা মেয়ে দৌড়ে আমার পাশে এসে বসলো বয়স ২১-২২ হবে শ্যাম বর্ণের মেয়েটি কি মায়াবী চেহারা। সে বলতে শুরু করলো আপু লাল ফুল আপনার ভালো লাগে আামর তো ভিষণ ভালো লাগে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম তোমার নামকি? মুচকি হেসে সে বললো সুইটি। সুইটি কি যেনো বলতে যাবে তখনই সাদা এপ্রোন পড়া দুইটা নার্স তাকে জোর করে টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগলো। মেয়েটা বলছে আপু আমি পাগল না আমার কথা গুলো শুনেন প্লিজ। মায়া হলো আমার আমি নার্সদের অনুরোধ করলাম যেনো তাকে নিয়ে যাওয়া না হয়। তারা কথা মানতে না চাইলে তাদের বললাম আমিও সাইকোলজির ছাত্রী সমস্যা হবে না ওকে সামলাতে। অনেক বলার পর নার্স দুটো বললো ঠিক আছে আমারা একটু দূরেই আছি ও কিছু করলে অবশ্যই ডাকবেন আমাদের। আমি মাথা নেড়ে হ্যা সূচক জবাব দিলাম।
আবার আমরা একসাথে বসে আছি। ওকে বললাম তুমি কিছু খাবে। আমার কথা শুনেছে কিনা বলতে পারবো না কিন্তু মেয়েটি আনমনে বলা শুরু করলো
প্রিয় ভালোবাসা
তুমি অন্ধকারে ভয় পাও তাই না।দেখো ভালোবাসার মৃত্যু হয় না আমি তোমায় ভালোবেসে মরে গিয়েও বেঁচে আছি। তুমি ছেড়ে গেলেও আমি তো যেতে পারিনা। এখন তুমি বা অন্য কেউ তোমার পাশে থাকতে আমায় বারণ করবে না। আমি অনায়সে তোমার কাছে যাবো তোমার খেয়াল রাখবো দুজনে অনেক ভালো থাকবো বলো। সেদিন রাতে যখন বৃষ্টি হচ্ছিল কারেন্ট চলে গেলো তুমি তো ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে ছিলে। তারপর ভয়ে ঘুমিয়ে পড়েছ হয়তো। আমি গেছিলাম তবে একটু দেরি হয়ে গেছে। এই দেখো কানে ধরছি আর হবে না এমন। এখন থেকে তোমার কাছেই থাকবো।
                                                                                                                                                                                                                                               ইতি
তোমার ভালোবাসা
অশ্রুসিক্ত চোখে তার কথা গুলো শুনছিলাম। হঠাৎ সে বলে উঠলো আপু চিঠি লেখা শেষ একটা পায়রার পায়ে বেঁধে দেবে আর বলবে ভালোবাসার ঠিকানায় পৌঁছে দিতে। তোমার কি কষ্ট হবে। মাথা নেড়ে বললাম না হবে না দিয়ে দেবো চিঠিটা মেয়েটা বিদায় নিয়ে চলে গেলো। আমি তার যাওয়ার পথে তাকিয়ে। ভালোবাসা সুন্দর অন্য দিকে ভালোবাসাই এতোটা নিষ্ঠুর।
যারা ভালোবাসে না তাদের তো কিছু হয়না সময় গেলে নতুন সাথী ঠিক খুঁজে পায়। আর যে ভালোবাসে সে মৃত প্রায় ভালোবাসার আত্মা হয়ে বেঁচে থাকে।
এরপর আমার আর মানসিক রোগীদের সাথে দেখা হয়নি ওই পেশা থেকে অব্যাহতি নিয়েছি স্বেচ্ছাতেই।