Goodman Travels

পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিনিধি : পাবনার রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩০০ মিটারের মধ্যে অবাধে দিনরাত চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এতে মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ শতবছরের পাকশী হার্ডিঞ্জব্রিজ ও লালনশাহ শেতু। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৭ কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন সম্পূর্ন নিষেধ থাকলেও পদ্মার তীর ঘেষে মাত্র ৩০০ মিটারের মধ্যেই চলছে অবাধে বালু উত্তোলন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রফিকুল আলম চৌধুরী জানান, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ নদী পাড়ের বাড়ি ঘর ও স্থাপনা মারাত্বক হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি আরও জানান, বৈধভাবে বালু উত্তোলন করলেও বিশেষ স্থাপনা থেকে নিরাপদ দূরত্বে নকশা মেনে বালু উত্তোলন করতে হবে। এদিকে প্রতিনিয়ত প্রায় অর্ধশতাধিক ভ্রাম্যমান ড্রেজার দিয়ে দিনে ও রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। এই অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বেপরোয়া বালু উত্তোলনে বৈধ ঘাট চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে লক্ষীনগর সরকারী ভাবে ডাক নেওয়া আহম্মেদ কনস্টাকশনের।

আহম্মেদ কনস্টাকশনের মো: সাইদুর রহমান জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের নেপথ্যে রয়েছে ভেড়ামারার বিটু হাজী ও সাইদ। এইসব বিষয় প্রকাশ্য থাকলেও কোন ব্যবস্থা নেই নৌ পুলিশের।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নৌ পুলিশের এস আই রিয়াদের সাথে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের লেনদেনের মাধ্যমেই চলছে বালু উত্তোলন। এভাবে চললে বৈধ ঘাট চালাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্খাও করছেন তিনি। অবৈধ এইসব বালু উত্তোলনে পারমানবিক প্রকল্পের ক্ষতি ও নদী ভাঙন হওয়ায় এলাকাবাসী উত্তোলনকারীদের আটক করে গনপিটুনি দিয়ে নৌ পুলিশের হাতে সোপর্দ করলেও টাকার বিনিময়ে আসামীদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আছে এলাকাবাসীর।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নৌ পুলিশ কোন কথা বলতে রাজি না হলেও পাবনা জেলা প্রশাসক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছেন। এভাবে যদি বালু উত্তোলন চলতে থাকে তাহলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাবে, তেমনি ঝুকির মুখে পড়বে মেগা প্রকল্প পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ শত বছরের হার্ডিঞ্জব্রিজ। তাই নদীভাঙন রোধ ও নদীর গতিপথ সঠিক রাখতে দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান এলাকাবাসী।