Goodman Travels

দশ বছরের ভাইটাকেও সবশেষে হত্যা করে তারা, আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অনলাইন রিপোর্টঃ জাতির পিতার পরিবারের কেউ যেন আর বেঁচে না থাকে, পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে সেভাবেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড চালায় ঘাতকরা। দশ বছরের ভাইটাকেও সবশেষে হত্যা করে তারা। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (০১ আগস্ট) সকালে শোকাবহ আগস্টের সূচনাতে ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত রক্তদান ও অসচ্ছলদের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় নিজ পরিবারের সদস্যদের হারানোর বেদনার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘাতকরা সেদিন মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, দুই ভাই,  ভাইয়ের বৌকে হত্যা করে। আবেগজড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, দশ বছরের ছোট ভাইটাকেও সবশেষে হত্যা করে ঘাতকরা।
তিনি বলেন, সেদিনের হত্যাকাণ্ড কেবল একটি বাড়িতে হয়নি। সেদিন যুব নেতা শেখ ফজলুল হক মনিকে হত্যা করা হয়। কর্নেল জামিল, যিনি খবর পেয়ে ছুটে গিয়েছিলেন তাকেও হত্যা করা হয়। ঘাতকদের আক্রমণে সেদিন ফুফু ও ফুফাতো বোন বেঁচে গেলেও তারা আছেন পঙ্গু হয়ে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় ছোট বোন শেখ রেহানা ও তিনি জার্মানিতে ছিলেন। ৩১ জুলাই সেখানে পৌঁছান তারা। আর ১৫ আগস্ট এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এমন কিছু ঘটতে পারে এবং এই দুঃসংবাদ পাবেন এটি ভাবতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে, একটি আশঙ্কা ছিল বলেও জানান তিনি।
এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার অধিকারও সেদিন ছিল না জানিয়ে গভীর দুঃখের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করা হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বিচারের ব্যবস্থা করা হয় বলে জানান তিনি।
এসময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পনের আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে ইসলামী রাষ্ট্র, বাংলাদেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে, এটি টিকাতে পারেনি তারা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। তবে হত্যার পেছনে যে ষড়যন্ত্র রয়েছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের সেই ষড়যন্ত্রও একদিন উন্মোচিত হবে। জড়িতদের বিচার হবে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, তবে তার আগে এদেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।