Goodman Travels

জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বিতরণ করা ত্রাণ ছবি তোলা শেষে ফিরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

অনলাইন রিপোর্ট : সাভারে ঢাকা জেলা যুবলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বিতরণ করা ত্রাণ ছবি তোলা শেষে ফিরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে সাভার কলেজ মাঠে শোকসভা ও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে এই অভিযোগ উঠেছে।

ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া জয়নাল, জহুরা ও আরেকজন নারীর ত্রাণ না পাওয়া এবং ত্রাণ ফিরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

তবে আয়োজকদের দাবি, ১০০০ অসহায় মানুষের জন্য আনা ত্রাণ হুড়োহুড়ির কারণে হয়তো তিন জন পাননি। তবে তাদের পরবর্তীতে যোগাযোগ করে তাদেরকে ত্রাণ নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

যুবলীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার দুপুরে শোকসভা ও ত্রাণ বিতরণের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিসহ আমন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য শেষে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, তেল ১ লিটার, ডাল ১ কেজি, পেঁয়াজ ২ কেজি ও লবণ আধা কেজি ত্রাণের প্যাকেজ বিতরণের জন্য আগেই দুস্থ ও প্রতিবন্ধীর মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান, ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিএস মিজানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া প্রতিবন্ধী জহুরা বলেন, আমাদের ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে যুবলীগ নেতা মিজান কার্ড দিয়েছেন। পরে আজ সকাল থেকে ত্রাণের জন্য এসে বসেছিলাম। আমরা প্রতিবন্ধী হওয়ায় নেতারা আমাদের ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে সামনে নিয়ে বসান। আমাদের হাতে ত্রাণ দিয়েছিল। পরে সাংবাদিকরা ছবি তোলার পর আমাদের হাত থেকে ত্রাণের প্যাকেট নিয়ে আবার রেখে দেয়। যারা ত্রাণের প্যাকেট হাত থেকে নিয়ে রেখে দিয়েছে তারাও নেতা, কিন্তু আমরা চিনি না।

পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রতিবন্ধী জয়নাল বলেন, আমাদের আগেই কার্ড দেওয়া হয়েছে। কার্ড থাকলেও ত্রাণ দেয়নি ওরা। ত্রাণ যদি নাই দেবে তাহলে কার্ড দিয়ে আমাদের এখানে ডেকে নিল কেন। আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিএস মিজান বলেন, করোনাকালীন সময়ে আমি সারা বছর অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি। আজ কেন্দ্রীয় যুবলীগের উদ্যোগে ১০০০ মানুষকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে জানতে পারি তিনজন মানুষ ত্রাণ পায়নি। যাদের মধ্যে জয়নালকে আমি চিনি। সে আগে আমার বাসায় কাজ করতো।

তিনি আরও বলেন, এতগুলো মানুষের মধ্যে তিন জন ত্রাণ না পাওয়াটা স্বাভাবিক। হুড়োহুড়ির কারণেই তারা ত্রাণ পাননি। আর যে তিন জন ত্রাণ পাননি তারা সবাই আমার বাসার পাশেই থাকে। পরে আমি সবার বাসায় ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি।