Goodman Travels

চুনারুঘাটে পুলিশকে বিব্রত করে ফেইসবুকে ভিডিও ভাইরাল ।। ভূয়া পুলিশ ও চালকসহ কারাগারে ৫

 হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ সবচেয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগের ওয়েবসাইট হলো ফেসবুক। ফেসবুকের কল্যাণে মানুষ খুব সহজেই বিশ্বের কাছে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে এই জনপ্রিয় মাধ্যমটির অপব্যবহার বেড়েছে। এই মাধ্যম ব্যবহার করছে প্রতারকরাও৷ সম্প্রতি চুনারুঘাটে ভূয়া পুলিশ ও সিএনজি চালক পুলিশ চেকপোস্টের অভিনয়ে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভিডিও আপলোড করে। ধারণকৃত ভিডিও প্রচার করে দেশ বিদেশে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে সিএনজি চালকসহ তার সহযোগী কয়েকজন।

সাধারণ মানুষ এই ঘটনার ভিডিও সত্যি মনে করে লাইক ও কমেন্ট ও শেয়ার করছেন। যাহা দেশ বিদেশে প্রায় লক্ষ লক্ষ লোক দেখেছেন। কমেন্টে অনেকে পুলিশ সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও করেন। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্যাহ বিপিএম পিপিএম এর নির্দেশে বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্তে নামে পুলিশের একাধিক গোয়েন্দা টিম। অবশেষে তাদেরকে সনাক্ত করে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, সিএনজি চালক সাটিয়াজুড়ী ইউনিয়নের পনারগাও গ্রামের ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়া (২৫), তার সহযোগী শহীদুল ইসলামের ছেলে হারুন মিয়া(২০), মনিরুল ইসলাম (২২), মৃত আব্দুল মন্নানের পুত্র মুক্তার জামান (২০), উবাহাটা ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের তুরাব আলীর ছেলে কামরুল হাসান (২৪)।

উল্লেখ্য পুলিশকে হেয় করে গত ৩১ জানুয়ারি সাজানো ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা হয়। সেখানে দেখা যায়, অটোরিকশাসহ ড্রাইভারকে আটক করা হচ্ছে। অটোরিকশা চালক পুলিশকে হেয় ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলছেন। ভিডিওটি ধারণ শেষে ফেইসবুকে আপলোড দেয় তারা। কতিত পুলিশ অটোরিকশা ড্রাইভারকে আটক করে তল্লাশি করে। তল্লাশির সময় সিএনজি ড্রাইভার পুলিশকে নিয়ে নানা কটূক্তি করে কথা বলে যা পুলিশ বাহিনীকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। সাধারণ মানুষ এইঘটনার ভিডিওটি সত্যি মনে করে অনেকেই অনেক নেতিবাচক লাইক ও কমেন্ট করেন। বিষয়টি পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতনের নজরে পড়ে।

এর পর থেকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের তত্বাবধানে বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্তে নামে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের একটি দল। অবশেষে বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিএনজি চালক শাহিনকে সনাক্ত করে আটক করা হয়।

আটক শাহীনের দেয়া তথ্যমতে জেলা গোয়েন্দার ওসি মো: আল আমিনের নেতৃত্বে একদল পু্লিশ ও চুনারুঘাট থানার ওসি মো: আলী আশরাফ এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম বিভিন্ন স্থান থেকে বাকীদেরকে গ্রেফতার করেন। চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলী আশরাফ বলেন, তারা এই ভিডিও ফেসবুকে আপলোডের কারণে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনসহ দেশের পুলিশ বিভাগের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তাদের বিরোদ্ধে চুনারুঘাট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। আটককৃতদেরকে শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আটককৃতরা সাংবাদিকদের বলেন, মজা করে চার বন্ধু মিলে ভিডিও করে সেফকুকে আপলোড করেছেন তারা।

এ বিষটি যে অপরাধ সেটা তাদের জানা ছিল না।