Goodman Travels

চীনের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন

অনলাইন রিপোর্ট : চীন পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। ১৩৮ কোটি জনসংখ্যার দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্র। এখন পুরো পৃথিবীর বিস্ময় চীন।

চীন পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। ১৩৮ কোটি জনসংখ্যার দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্র। এখন পুরো পৃথিবীর বিস্ময় চীন। এই বিশ্বে সকল ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে অবাধ বিচরণ চীনের। এই দেশে সাধারণত ৬-১১ বছর বয়সী শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় শুরু করে।


মোট ৫ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন ৬৫ লাখ শিক্ষক। ১৩ কোটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলগামী বয়সী শিশুদের ভর্তির হার ৯৯ দশমিক ১ শতাংশ।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনতে যাচ্ছে চীন। তারই প্রেক্ষিতে ছয় এবং সাত বছর বয়সী স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। 

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানায়, প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করা সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে চীন।

এর আগে চীনে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে ১৮ বছর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশকালীন সময় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পরীক্ষা দিতে হতো। কিন্তু চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, এই ব্যবস্থা চাপ মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যে অত্যন্ত ক্ষতিকর।
এক বিবৃতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পরীক্ষা অবশ্যই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে অত্যাধিক পরীক্ষা নেয়। আর এতেই শিক্ষার্থীদের জন্যে বোঝা হয়ে যায়। এগুলো সমস্যা সৃষ্টি করছে। এগুলোর সমাধান জরুরী। প্রত্যেক মেয়াদে পরীক্ষার মেয়াদ সীমাবদ্ধ করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব।

চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরো জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির জন্যে খাতায় পরীক্ষা নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। অন্যান্য গ্রেডের জন্যে প্রত্যেক সেমিস্টারে চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়া হবে। অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা জুনিয়র হাইস্কুলের জন্যে বরাদ্দ রাখা হবে। 

প্রাথমিক স্কুলের সকল ধাপে স্থানীয় বা আন্তঃস্কুল পরীক্ষা আয়োজন করার কোন প্রয়োজন নেই। এছাড়া জুনিয়র হাইস্কুলে সাপ্তাহিক পরীক্ষা, ইউনিট পরীক্ষা, মাসিক পরীক্ষার নামে যতগুলো পরীক্ষা আছে সব বন্ধ করা হবে।
এদিকে চীন সরকারের এমন ঘোষণায় দেশটির নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে জনগণ। অনেকেই বলছেন চীনা কর্তৃপক্ষ একেবারে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে শিশুরা পরীক্ষা নামক বাড়তি চাপ থেকে মুক্ত হবে। তবে কিছু মানুষ প্রশ্ন করছে পরীক্ষা বাদ দিয়ে কিভাবে শিক্ষার্থীদের মান নিশ্চিত করতে পারবে স্কুল কর্তৃপক্ষ?

বিবিসি জানাচ্ছে, এই ঘোষণা চীনের শিক্ষাখাতে ব্যাপক সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ বছরের জুলাই মাসে চীন সরকার দেশে পরিচালিত অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মূল শিক্ষা পদ্ধতি পড়ানোর মধ্য দিয়ে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি নিষিদ্ধ করে।  
 
এছাড়া নতুন নিতিমালা প্রণয়ন করে বেসরকারি শিক্ষাখাতে বিদেশি বিনিয়োগ সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে এই সেক্টরে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার।

বিবিসি জানাচ্ছে, শুধু তাই নয় শিশুদের বেড়ে উঠতে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে তা কমানোর চেষ্টা করছে চীনা কর্তৃপক্ষ। চীনের শিক্ষা বৈষম্য একটি সমস্যা। দেশটির সম্পদশালীরা চীনের সবচেয়ে ভাল স্কুলগুলোতে পড়ানোর জন্যে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে ইচ্ছুক।
বিবিসি জানায়, শুধু তাই নয় এই বৈষম্য অবস্থা এমন যে ভাল স্কুলগুলোর পাশে জমির দাম অনেক বেশি। কারণ ধনী শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ভাল স্কুলগুলোর পাশে থাকার জন্যে জমি কিনতে উদগ্রীব হয়ে থাকে।

এদিকে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বছর আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে, সেটি হলো প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম শ্রেণিতে বাড়িতে হোম ওয়ার্ক নিষিদ্ধ। এছাড়া জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা রাত্রে মাত্র দেড় ঘণ্টা পড়াশোনার করবে।