Goodman Travels

করোনা প্রতিরোধে সামনের সারির যোদ্ধা ডাঃ শুভাশীষ সাহা শুভ

রেজাউর রহমান তনু, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: করোনাভাইরাস মহামারির শুরুর দিক থেকে প্রথম সারির যোদ্ধা হয়ে মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। জীবন বাজি রেখে তারা লড়ে যাচ্ছেন অদৃশ্য এক শক্তির বিরুদ্ধে। করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে সরাসরি নিরলস ভাবে সেবা দিতে হচ্ছে চিকিৎসকরা। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণও গেছে অনেকের।
অন্য চিকিৎসকদের মতো করোনার বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন। ভেড়ামারা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডাক্তার শুভাশীষ সাহা শুভ। তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন নির্ভয়ে। তাঁর একটাই কথা-চিকিৎসক হওয়ার শপথ যখন নিয়েছি তখন মানুষের সেবা দিয়েই যাব। জানা যায়, রাজশাহীর ছেলে ডাক্তার শুভাশীষ সাহা শুভ ২০১৭ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তার দায়িত্বে কোনো সময় ছিল না অবহেলার ছাপ। জরুরি প্রয়োজনে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষজন সবসময় তাকে পাশে পেয়েছে।
করোনাভাইরাসের শুরু থেকেই ডাঃ শুভাশীষ সাহা শুভ অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সাহসিকতার সাথে রোগী দেখেন। করোনার প্রথম সারির এ যোদ্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা রোগীর সেবা দেওয়ার পরেও অন্তঃবিভাগে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবাই নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। সেই সাথে নিয়মিত টেলিমেডিসিন সেবাও প্রদান করে যাচ্ছেন।
ডাঃ শুভাশীষ সাহা শুভর বাবা সুকুমার সাহা বলেন, ‘আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতো। সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। করোনা পরিস্থিতিতে সে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমার আলাদা করে কিছু বলার নেই। তারা ডাক্তার, তাদের কাজ মানুষের সেবা দেয়া। আমরা শুধু বলতে পারি, তোমরা সাবধানে থেকো।
ডাঃ শুভাশীষ সাহা শুভ নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও মানবিকতা দেখে তাকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এর ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি বর্তমানে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর করোনা ওয়ার্ডে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। করোনা যুদ্ধের সামনের সারির এই যোদ্ধা বলেন, এটা আসলে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। করোনাভাইরাসের মতো এমন ভাইরাস আগে কখনও আসেনি।
সেহেতু এটা নিয়ে কাজ করা একদমই নতুন অভিজ্ঞতা। পরিবার থেকে কখনও অসহযোগিতা পাইনি। বরং তাদের অনুপ্রেরণা আমাকে আরও বেশি সাহস জুগিয়েছে।
সরকারের সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পিপিই, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন উপকরণ পাচ্ছি। একমাত্র সচেতনতাই পারে করোনাভাইরাসের এই ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করতে।
মুখে সবসময় মাস্ক পরিধান ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এগুলো সব সময় সবার করা উচিত বলে মনে করেন করোনা যুদ্ধের এই সম্মুখযোদ্ধা।